Type Here to Get Search Results !

একটি ফুটবল ম্যাচ খেলার সময় কিভাবে জলের পরিমান ঠিক রাখবেন।

 একটি ফুটবল ম্যাচ খেলার সময় কিভাবে জলের পরিমান ঠিক রাখবেন।



৯০ মিনিটের একটি ফুটবল ম্যাচের জন্য সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করা অসম্ভব যদি না আপনি সঠিক শারীরিক সুস্থতায় থাকেন, আর এই শারীরিক সুস্থতার একটি বড় অংশ হলো সবসময় হাইড্রেট থাকা অর্থাৎ শরীরে জলের পরিমাণ সঠিক পরিমাণে থাকা।

ম্যাচ ডে” হাইড্রেশন হলো একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্সের ক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ তরল গ্রহণ না করা ম্যাচের আগে এবং ম্যাচ চলাকালীন দ্রুত পারফরম্যান্স কমিয়ে দেওয়ার লক্ষণ। কারণ ওই সময়  শরীরের থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বাষ্পীভূত হয়ে বেরিয়ে যায়।  কিন্তু সেই ফুটবলার যদি সঠিকভাবে হাইড্রেট থাকেন বা জলের পরিমান সঠিক রাখতে পারেন, তাহলে  সেই সমস্যা হয় না।

তাই একটি ম্যাচ প্রস্তুতিতে হাইড্রেট বা জলের পরিমাণ সঠিকভাবে বজায় রাখা অবশ্যই একজন ফুটবলার এর পারফর্মেন্স এর ক্ষেত্রে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।


প্রত্যেক ফুটবলারকে হাইড্রেশন প্রক্রিয়াকে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে ভাবতে হবে। 

সহজ সরল সত্যটা হলো এই যে একটি ম্যাচ দিনের জন্য হাইড্রেশন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হওয়া দরকার। যদি কোন ফুটবলার বা কোনো বড় খেলোয়ার আগের সপ্তাহে নিজের যত্ন না নিয়ে থাকেন তাহলে সম্ভবত সেই ফুটবলার ম্যাচ অ্যাকশনের জন্য নিজেকে বঞ্চিত করবেন । সাধারণত আপনাকে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লিটার তরল গ্রহণের জন্য লক্ষ্য রাখা উচিত। খাদ্য এবং পানীয় সংমিশ্রণে আছে এমন খাবার গ্রহণ করা উচিত।  বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ ফুটবলাদের সহজে প্রতিদিন প্রায় দু লিটার জল পান করা একটি যুক্তি সংগত লক্ষ্য বলে মনে করেন।

প্রশিক্ষণ এবং ম্যাচের সময় ঘামের মধ্যে দিয়ে শরীরের তরল পানীয় বেরিয়ে যায়।  প্রত্যেক ফুটবলারের উচিত শরীরে জলের পরিমাণ ঠিকঠাক থাকছে কি না সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা।


বর্তমানে স্পোর্টস মেডিসিনে বলা হচ্ছে যে, প্রশিক্ষণ চলাকালীন লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে প্রশিক্ষণ চলা কালিন খেলোয়াড়দের শরীরে জলের চাহিদা অভাব না ঘটে এবং সে যাতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল পান করে। বর্তমানে কোচরাএকটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রত্যেককে জলপানের সুযোগ দেন । ফলে শরীরের চাহিদা ঠিকঠাক থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে কঠিন পরিশ্রম করার পরে অনেক কোচ জল দিতে চান না।  এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। এসব ভ্রান্ত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । প্রশিক্ষণের সময় অন্তত পনের মিনিট পর জল পানের সুযোগ করে দিতে হবে। খেলোয়াড়দের কেও মনে রাখতে হবে তঅকে জল পান করতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণে।

স্পন্সর


ম্যাচের সময় অল্প পরিমাণে বারবার জল পান করার চেষ্টা করতে হবে। বর্তমানে খেলার অনেক সময় দেখা যায় গরমের দেশগুলিতে ২৫-৩০ মিনিট অন্তর জল পানের বিরতি দেওয়া হয়। ওই সময় অবশ্যই তাকে কিছু পরিমাণ জল পান করতে হবে। একজন ফুটবলার একটি ম্যাচে গড়ে .৮থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত ছুটে থাকেন এবং সেই সময় তাঁর ডিহাইড্রেশনের মাধ্যমে এক কিলো পর্যন্ত ওজন কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় । 

আর সে জন্যই বেশিরভাগ ফুটবলার সুস্থ এবং নিজেকে ফিট রাখতে প্রয়োজনীয় জলপান অবশ্যই দরকার।

একটি ফুটবল ম্যাচের আগে নিজের ওজন দেখে নেওয়া উচিত, ম্যাচ শুরুর আগে তার ওজন কত এবং ম্যাচ শেষের পরে তার ওজন ঠিক কতটা কমেছে এই তারতম্য দেখা উচিত। যদিও আমাদের দেশে তার ব্যবস্থা নেই। কিন্তু ইউরোপের দেশ গুলিতে এসব ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই ব্যবস্থা অনুযায়ী তার খাদ্যতালিকা নির্ধারিত হয়। তাকে কতটা জল খেতে হবে বা কতটা জল খাওয়া উচিত হবে সেটা নির্ধারিত হয় এই ওজনের তারতম্য রিপোর্ট এর উপর। 

যদি একজন ফুটবলার ১ কেজি ওজন লস করেন তাহলে অবশ্যই তার দেড়গুণ পরিমাণ তরল গ্রহণ করা উচিত। স্পোর্টস মেডিসিন অনুযায়ী যে পরিমাণ ওজন একজন ফুটবলার ম্যাচের পরে হারাচ্ছে তার দেড়গুণ পরিমাণ তরল অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত ম্যাচের পর। আমাদের দেশে সাধারণত এসব পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। ফলে আমরা শুধুমাত্র খারাপ খেলার জন্য তাকে দোষারোপ করি আর গালাগালি করি । কিন্তু তার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করার চেষ্টা করি না।

জলের পরিমান ঠিক রাখা ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটাতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করে সে ব্যাপারে আমরা কখনই ভেবে দেখি না।


ম্যাচ চলাকালীন স্পষ্টতই বারবার জল গ্রহণ করা সম্ভব হয় না, কিন্তু একজন খেলোয়াড়ের লক্ষ্য রাখা উচিত যে যখনই কোন খেলয়ারের ইনজুরি জনিত সমস্যা হচ্ছে অথবা সেটপিস এর সময় অথবা খেলার মধ্যে কোন বিরতি ঘটলেই অল্প গল্প জল পানের সুযোগ নিয়ে নেওয়া। এটা কে আপনি ট্যাকটিক্যাল সুযোগ হিসেবে দেখতে পারেন।

যখন শরীর থেকে প্রচন্ড ঘাম হতে থাকে তখন শুধুমাত্র পানিও নয় পানীয় সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ গুলি ও শরীর থেকে বেরিয়ে যায় এইজন্যই আইসোটোনিক পানীয় পান করা দ্রুত এবং আরো লক্ষণীয় ফলাফল দিতে পারে কিন্তু ব্যাপার হচ্ছে যে আমাদের দেশের গরীব ওখেলয়ার দের ক্ষেত্রে এই সব সুযোগ-সুবিধা হয়না কিন্তু এটা করা যেতে পারে যে খেলার পরে বা আগে ইলেক্ট্রোলাইট এবং কার্বোহাইড্রেট যুক্ত পানীয় গ্রহণ করা।

শুধু তাই নয় একটি “ম্যাচ ডে” র দুই থেকে তিন দিন আগে থেকেই শরীরের জলের পরিমাণ এর প্রতি যত্নশীল হতে হবে। বর্তমানে স্পোর্টস সাইন্স পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে যে শরীরে জল শূন্যতা হলে পারফরম্যান্স ১০% পর্যন্ত নেমে যেতে পারে ।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Sovrn

ads