Type Here to Get Search Results !

খেলাধুলার উন্নয়নে স্কুলের ভূমিকা

   খেলাধুলার উন্নয়নে স্কুলের ভূমিকা



ই- স্পোর্টস নিউজ ডেস্কঃ  ভারতের মতো এতো বড় দেশ যখন বিশ্বের ক্রীড়া আঙিনায় শূন্য হাতে ফিরে আসে তখন আপামর ভারতবাসী মত আআমাদের মত ক্রীড়াপ্রেমী মানুষদেরও খারাপ লাগে। কিন্তু এ খারাপ লাগার কারণ কে কখন অনুসরণ অনুসন্ধান করিনি। আসলে আমরা কেউই সেই কারণ অনুসন্ধান করতে চাইনি। শুধু হা হুতাশ করে সরকারের নামে দু চারটি গালাগাল দিয়ে, চায়ের দোকানে বা পাড়ার রকে আড্ডার আসর গরম করেছি । অথচ একবারও ভেবে দেখলাম না এর পিছনে কোন কারণ গুলো লুকিয়ে আছে । এত বড় দেশের কোটি কোটি মানুষ কারর মধ্যে কি যোগ্যতা নেই ? আছে , আসলে সেই যোগ্যতা কে বহি প্রকাশ করার মত যোগ্য মঞ্চ হয়তো আমরা তৈরি করতে পারিনি। আমরা সকলেই ভেবেছি নিজেদের সন্তানকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার অথবা আই এ এস, আই পি এস করবো । আমরা কেউই ভাবি না যে, আমাদের সন্তান খেলোয়ার হোক, অনেকে হয়তো ভাবি কিন্তু কোটি কোটি মানুষের তুলনায় সেই ভাবনা খুবই নগণ্য। আমরা যারা অভিভাবক বা অভিভাবিকা তাদের চিন্তাধারার মধ্যেও পরিবর্তন আনা দরকার । কারণ চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন না হলে খেলাধুলার গুরুত্ব কি, তা বুঝতে না পারলে আমরা কখনোই আমাদের সন্তান সন্ততি কে ক্রীড়া ক্ষেত্রে নিয়ে আসবো তা। সুতরাং যে ভাবনা নিয়ে আমরা আমাদের শিশুদের বা বাচ্চাদের স্কুলে ভর্তি করি ঠিক সেই একই ভাবনা নিয়ে যদি আমরা কোন স্পোর্টস একাডেমী বা খেলাধুলার কোচিং সেন্টারে ভর্তি করি এবং তাদের মধ্যে এই বোধ জাগ্রত করি যে, তোমাকে খেলোয়াড় হতে হবে । খেলেই জীবিকা অর্জন করতে হবে । তাহলে হয়তো ছোটবেলা থেকেই তার মনের মধ্যে খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন বা বাসনা তৈরি হয়ে যাবে। যেভাবে একজন বাবা মা তার সন্তানের মধ্যে ভবিষ্যতের ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার বীজ বুনে দেয়, ঠিক সেই ভাবেই এই প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে খেলোয়াড় হওয়ার বীজ বুনে দিতে হবে । এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ এবং মনোবিদ রুশর একটি লাইন উল্লেখ করা যেতে পারে - “শিশুদের মস্তিষ্ক বা মন সাদা কাগজের মতো সেখানে যে দাগ কাটা হবে এইডা কি কাগজের মত মনের মধ্যে থেকে যাবে”। 2018 সালের রাজ্য সভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার উল্লেখ করেছেন যে ভারতবর্ষের সমস্ত রাজ্যের সমস্ত স্কুলগুলিতে সমস্ত খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখতে হবে শুধু ব্যবস্থা রাখলেই হবে না ওই সমস্ত খেলাধুলার জন্য প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে । তার কারণ স্কুল জীবন হলো মানুষ গড়ার মানুষ তৈরি হওয়ার উপযুক্ত সময় ভারতবর্ষের সমস্ত অভিভাবকরা যেদিন তার সন্তানকে প্রশ্ন করবে “তুমি খেলাধুলা করেছে তো? তুমি মাঠে গিয়েছিলে তো? সেই দিন ভারতের ক্রীড়া জগতে আমূল পরিবর্তন আসবে।” এই প্রশ্নটা যেদিন তার অভিভাবকরা জিজ্ঞাসা করবে তার বাচ্চা কে তুমি মাঠে গিয়েছিলে তো ? সেদিনের জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হবে। প্রয়োজন হবে পরি কাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন। 


 স্কুল জীবন থেকেই ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে খেলাধুলা কে নিয়ে জীবন-জীবিকার সন্ধান দিতে হবে। একজন নামী খেলোয়াড় খেলে যে অর্থ রোজগার করে সেই পরিমাণ অর্থ একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়তো সারা জীবনেও আয় করতে পারবে না পারলেও তার সংখ্যা       খুবই নগণ্য। 

সুতরাং কেন আমরা খেলাধুলাকে স্কুল জীবনে নিয়ে আসবো না আর কেনই বা ভবিষ্যতের জীবিকা হিসেবে খেলাধুলা কে দেখব না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে , আমেরিকাতে এমনকি তৃতীয় বিশ্বের আফ্রিকা শুধুমাত্র ফুটবলকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করে বেঁচে আছে । প্রতিবছর কয়েক হাজার আফ্রিকান সারা বিশ্বের কোন কোন দেশে ফুটবল খেলতে যায় এবং জীবিকা নির্বাহ করে । আমাদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ বিগত কয়েক বছর ধরে 10 টি দল নিয়ে পেশাদার ফুটবল লিগ চালু করেছে , এই লিগে অংশগ্রহণকারী কোন খেলোয়ার চাকরি করতে বা ব্যবসা করতে পারবে না । তারা যে অর্থ ক্লাব গুলি থেকে পায় তা যথেষ্ট । আমাদের ভারতের আইপিএল হচ্ছে, আইএসএল হচ্ছে, আই লিগ হচ্ছে কিন্তু কোথাও চূড়ান্ত পেশাদারিত্ব মনোভাব নেই । তার ফলে খেলোয়াড়দের মন পড়ে থাকে অর্ধেক খেলার মাঠে আর অর্ধেক তার কর্মসংস্থানের দিকে । শচীন টেন্ডুলকার তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন “খেলার মাঠ আমার অফিস ,বাইশ গজ আমার অফিসের বিচরণ ক্ষেত্র” । অথচ সেই ভারতে আমরা কোনভাবেই পরিকাঠামোগত দিক থেকে পেশাদারিত্ব নিয়ে আসতে পারছি না ।  

ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রী প্রাক্তন শুটার রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোর প্রতিটি স্কুলে যাতে খেলাধুলার গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রতিদিন রাতে রুটিনে খেলার প্রিয় থাকে সে ব্যাপারে একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন। এই নির্দেশিকা কোন কোন রাজ্য মানবে তা বলতে পারবো না। কিন্তু প্রত্যেকটি রাজ্য বা স্কুলকে অবশ্যই এই নীতি মেনে চলা উচিত । যুব সমাজকে মানসিক এবং শারীরিক ভাবে দৃঢ়তা প্রদান এর জন্য পড়াশোনায় যথেষ্ট নয় । পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা 100% জরুরী। সেই সঙ্গে খেলাধুলা কে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ছোটবেলা থেকেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই উদাহরণ সিলেবাসের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরতে হবে যাতে তারা জীবিকা অর্জনের উপায় হিসাবে খেলাধুলা কে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে পারে।

স্কুল থেকে স্কুল গেলে বহু ক্রিকেটার ফুটবলার সারা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। কে নেই সেইটাই ফুটবলের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে তাদের নাম জ্বলজ্বল করছে, ডেভিড বেকহা্‌ পলস স্ক্লস, শচীন তেন্দুলকার, বিনোদ কামলি প্রমূখ। উদাহরণ দিতে গেলে হয়তোবা আরো কয়েকটা পাতা তার প্রয়োজন হবে।

যে প্রসঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক, খেলাধুলা কে জাতীয় পর্যায়ে উন্নত করতে হলে ছোটবেলা থেকেই স্কুল জীবন থেকেই খেলাধুলা কে প্রাধান্য দিতে হবে তা না হলে অন্যান্য দেশ গুলি যেমন এগোতে থাকবে আমরা পিছিয়ে থাকব। জাপানের একটি ইউনিভার্সিটি ফুটবল টিম আমাদের ভারতীয় দলকে হারিয়ে দিতে পারে সিনিয়র এর কথাই বলছি। ১৮ - ১৯ বছর আগে ইউনিভার্সিটি খেলতে এসেছিল ভারতের পরবর্তী চার বছরের মধ্যে সেই থেকেই পাঁচ থেকে ছয় ছেলে জাপানের জাতীয় দলে রাজত্ব করেছে তাদের মধ্যে ছিল নাকামুরা এবং সিন জি ওনো রা। আমাদের দেশে পরিকাঠামো আর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ফুটবলার অন্যান্য খেলোয়াড় তৈরি হয় না। ক্রিকেট খেলাটা মোটামুটি যে ধরনের শারীরিক পরিকাঠামো দরকার সেই ধরনের পরিকাঠামো এবং শারীরিক গঠন থাকায় অসুবিধা হয় না । কিন্তু ফুটবল অত্যন্ত শারীরিক খেলা সেখানে যে ধরনের পরিকাঠামো পরিকল্পনা প্রস্তুতি দরকার হয় সেই ধরনের পরিকল্পনা পরীক্ষার প্রস্তুতি স্কুল থেকে ছোট বয়স থেকেই যদি তৈরি করা যায় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ভারতীয় ফুটবল আশার আলো দেখবে। সবার আগে যেটা দরকার সেটা হলো খেলাধুলাকে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা । যে ছেলেটা খেলাধুলা করে জীবিকা অর্জন করবে তার জন্য বীজগণিতের কঠিন সমাধান পাটিগণিত সমাধান কতটা প্রয়োজন সেটা ভেবে দেখার দরকার আছে। কিন্তু যেটা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে তার জীবনে খেলাধুলার প্রয়োজন আছে। কারণ খেলাধুলা তার শরীর এবং মন কে সুস্থ ও স্বাভাবিক তৈরি করবে। আমাদের মানসিকতা আমাদের চিন্তাভাবনাকে চলুন আমরা পাল্টে ফেলি আমরা খেলার মাঠে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে আসি এবং স্বপ্ন দেখাই।  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Sovrn

ads